০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাসুদেব সেন

বীজ ধুয়ে যায়, সততার বীজ
     
আমার ঘরের পাশে জেগে ওঠে
দীর্ঘ নাগতরু !
সে যেন আকাশ ছোঁবে
এতটাই বড়;
রাতের ঝিলিমিলি জোনাকি পোকারা 
তাতে বাসা বেঁধে থাকে ;
রঙিন আলোতে যেন যাদু ভরা তারা ।
আমার অন্য ঘরে ঘুমোয় কিশোর,
সত্যি ঘুমোয়না তো !
সারারাত ফেসবুক চলে।
কানেতে ইয়ারফোন,
পৃথিবীর শব্দ আর মজা খেলে হাতে।
বেজে গেল বারোটা, একটা, দুটো।
শুধু কি ঘরে ? চারদিকে সততার বীজ 
ধোয় গঙ্গার পলে, এমনকি 
হিমালয় পর্বতে, মালভূমি,
উপত্যকা জুড়ে ।
আমরা কি ই বা খুঁজি,
বা পাশ ঘুরোলে খাদ,
ডান পাশে নির্বাচনী প্রলেপ,
সততার সলিল সমাধি ।



দীপন দাস

এখান বসবেন না

মধ্যবিত্তের বিলাসিতা মিনিবাস
দুঃসাহস সঞ্চয় করে উঠলাম মিনিবাসে।
প্রচন্ড ভীড়, সবার লক্ষ
মিনিবাসের বনেডের উপর।
অতি যত্নে লেখা
"এখানে বসিবেন না"।

ঠেলাঠেলি,ধাক্কাধাক্কি
পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই, বুকের ব্যথাটা
চেপে রেখেছি অনেকদিন।
অনুর অ্যানিমিয়া; ভেনেডিয়াম-6
আবার এক্সরে ওষুধ
ধার ধার আবার ধার
অনু লাফিয়ে উঠবে
আদর না অত্যাচার
বোঝা হবে মুশকিল
--"তুমি না বাঁচলে
এ সংসারটা বাঁচাবে কে--"

হঠাৎ মিষ্ঠি হেসে--
" দাদা একটু সাইড দেবেন"
ফিরে দেখি অত্যাধুনিকা নারী।

প্রচার সমাজ পুরুষ শাষিত
অবলা বলে পুরুষ অনুপ্রানিত।

"অ্যাই যে দাদা একটু সাইড দিন,
দেখছেননা একটি মেয়ে।"
সমস্বরে চিৎকার করে উঠল
একদল তথাকথিত পুরুষ।

এক পা এক পা করে ভিড় ঠেলে
---এগেচ্ছে মিষ্ঠি হেসে
'একটু সাইড দেবেন--
       একটু সাইড দেবেন।'

মোনালিসা এগুচ্ছে বনেডের দিকে
সবাই দাঁড়িয়ে আছে
এতো ক্ষণে ড্রাইভারের "না"
হয়ে উঠলো "হ্যাঁ "।

মিষ্ঠি হেসে মোনালিসা--"বসবো"?
চোয়াল চেবানো, স্ট্রিয়ারিং ঘোরানো
নিঃপ্রাণ মুখে হঠাৎ প্রাণের সঞ্চার
ড্রাইভার সাগ্রহে বলল বসুন।