০৫ ডিসেম্বর ২০১৩

কবিরুল ইসলাম কঙ্ক


আমি কবি, ইভ জানে 


ইভের হাতে গোলাপ তুলে দিয়ে
আমিই প্রথম বলেছিলাম---‘চলো, গভীর অরণ্যে যাই’
পাপড়ির নরম স্তরে না বলা কথা, অবিন্যস্ত পঙক্তি দিয়ে
ইভ তার নগ্ন শরীর ঢেকেছিল
চুইয়ে পড়া সূর্যরশ্মি স্পর্শ, স্নায়ুকোষে জৈবিক ক্রিয়া
আদিম অরণ্যের নির্ভেজাল উন্মুক্ত ঠোঁটে ইভ
আমাকে পুরোপুরি প্রস্তুরীভূত করে সৃষ্টি রহস্য শিখিয়েছিল

সেই থেকে আজ অব্দি ভেসে গেছি উজানি সভ্যতায়
নির্দিষ্ট কক্ষপথে হাঁটছি অ্যামিবার মতো, নদীর মতো, ঝরনার মতো
অজান্তে হয়ে গেছি প্রতিটি পাতায় ইতিহাসের ফসিল  
চেতনার পাথর স্তরে অস্তিত্বের প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁজ  
আমি সৃষ্টি রহস্যে এখনও সেই পরিবর্তনহীন জীবাণু
পাশাপাশি ইভ গর্ভে ধারণ করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম

শর্ত সাপেক্ষে, আমি পৃথিবীর আদিম পুরুষ বটে
তবে ইভের পেলব ছোঁয়ায় অদম্য উত্তেজনাকাল
আমার মধ্যে জন্ম দিয়েছে অসংখ্য কবিতা
যা আমি ইভের জরায়ুতে নিয়মিত সরবরাহ করেছি

আমি যে আসলে কবি, তা ইতিহাস জানে না  
ইভ জানে   



তানিয়া চক্রবর্তী

কিছু পরে

আসলে বলছিলাম কিছু পরে,
কিছু পরে ফিরে আসব
সময় একটা অলীক অতীত হতে পারে
                    ---তোমার কাছে
আমার কাছে বিশ্রামরত শিল  মাছের বোকা হেলান
তুমি নির্বাক অথচ ঘনিষ্ঠ বলে যন্ত্রণায় আঠা লাগাই
মিথ্যে কিছু সময় বন্ধ রাখি
তুমি অপেক্ষারত--- ভাবলেই ভুল করি
এই সময়টা বাহানার বাসনায় ফেরত দেব তোমায়
আসলে তোমারও কিছু পরে যাব  আমি
চলে যাওয়াটা একটা অশরীরী রীতি
যদি জানো ব্যাথা কোথায়, তাহলে তুমি  ব্যাথিত নও 
যদি জানো ব্যাথা কোথাও নেই, অথচ তুমি ব্যাথিত
তাহলে জেনো, পর্ণমোচীর শেষ  পাতার মতো
জর্জরিত হয়ে গেছে তোমার  গন্ধ
এটা প্রয়োজন, আরো কিছু পরে  তুমি বুঝবে

আমারও যাওয়াটা তোমার নিতান্ত  প্রয়োজন