০১ জুন ২০১৫

গুচ্ছকবিতা- অনির্বাণ হালদার

তুমি কাছে থাকলে

তুমি কাছে থাকলে 
আঁধার হয়ে থাকা সবুজ বুঝতে পারে না
আলোয় কখন সবুজ হয়ে গেছে ।
তুমি কাছে থাকলে 
সকালের চাষি বুঝতে পারে না
পথটি কখন ক্লান্ত ঘর-মুখো হয়ে গেছে।
তুমি কাছে থাকলে বোঝা যায় না
দীর্ঘ পথ কখন ছোট হয়ে যায়
দীর্ঘ বসে থাকা কেন অল্প হয়ে যায়।
তুমি কাছে থাকলে বোঝা যায় না
কখন বেলা গড়িয়ে আসে।


বসে আছি তোমার কাছে

বসে আছি নদীর ধারে 
বসে আছি তোমার কাছে.....
শীতল বাতাস জলে তোলে ঢেউ 
ঢেউ ছুটে আসে কিনারায়
তোমার দুটি পা ভেজাতে ।
বসে আছি তোমার কাছে......
পাখিদের ঠোঁটে ভোরের গান,
তোমাকে ছুঁয়ে যায় বাতাস
বাতাসে সবুজের গন্ধ 
দেখ........
মেঠো-সোনালী ফসলের স্পর্শ পায় 
মাথাল মাথায় চাষি 
আনন্দে হাঁটে আল ধরে ।
নদীর ধারে 
দু'চারটি শালিক চড়ুই সাথ-এর সাথে
মাটি খুঁটে পোকা খায়.......
কয়েকটি বক ওত পেতে থাকে রূপোলী ঝলকে,
ওদের স্বচ্ছন্দতা তোমার আঁচলে ।
খানিক পরে ঠিকরে পড়ে রোদ 
ঠিকরে পড়ে জলে
হালকা ঢেউ অসংখ্য তারাকে ভাঙে-গড়ে
ঝিকমিকে আলো পড়ে তোমার গায়ে । 
বসে থাকি......
বসে থাকি তোমার কাছে
বসে থাকি আনন্দে । 


পাথেয়
নিজস্ব আকাশে যখন মেঘ জমে ওঠে 
তোমাকে অনুভব করি ,
রঙিন আকাশের নীচে সবুজে বসি
তুমি-আমি বা আমি-তুমি....
ব্যস্ত জীবনের পান্ডুলীপি থাকা শুকনো পাতাগুলি
ক্রমাগত সরে সরে যায়....
সারাদিনের তপ্ত ধূলিকণাগুলি খোঁজে 
রাতের নিস্তব্ধতা.....
অবশেষে মেঘ ভেঙে হয় বৃষ্টি 
বৃষ্টি আনে রামধনু
রামধনুতে ফোটে আনন্দের রেখা 
আমার ব্যস্ত জীবনের  পাথেয় ।


প্রকাশ

আকাশের গায়ে অসংখ্য তারা ছিল
তারা থাকলে কি হবে 
অন্ধকার ঢেকে রেখেছিল তোমায় ....
শিশিরে ভেজা তৃণ.....
আকাশ সারারাত কেঁদেছিল । 




তাহির হাসান মহম্মদ সফি

করুণাময়ী 
জননী আমার জননী জন্মভূমি 
ওমা কষ্টে আছো তুমি ?
আঁখি সম্মুখে ঘটছে যেসব
শয়তান দলের নৃত্য
কাল যে তোমায় হার মানাল 
বাধ্য হয়ে ভৃত্য ।
কখনও তুমি মাতৃরূপে 
কখনও প্রনয়ণী
কখনও আবার স্নেহময়ী
ভগিণী রূপে চিনি
ওগো মাতা , তুমি ওগো ছিলে বলে 
অধম গুলো জনম নিলে 
লালন পালন করলে তারে 
শত যন্ত্রণাতে
পরিশেষে একি পেলে 
ঘরে-বাইরেতে 
ধর্ষণ চরে গেল চলে 
কেউবা বৃদ্ধাশ্রমে ।
তবুও তোমার অশেষ মায়া 
অসীম তোমার করুণা 
নয়ণ জল লুটাও তারে 
যতই দিকনা যন্ত্রণা ।